এইচএসসি বিলাসী Hand গল্পের নোট | PDF Download

বিলাসী—শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়

পাঠ পরিচিতি: 

‘বিলাসী’ গল্পের প্রধান চরিত্র বিলাসী। সে নিচু বর্ণের সাপুড়ের মেয়ে। গল্পে উচ্চবংশীয় মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে বিলাসী। মৃত্যুঞ্জয়ও তার সেবার প্রতিদানে ভালোবেসে বিয়ে করে তাকে। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থপর খুড়া গ্রামে বিভিন্ন কুৎসা রটনা করে বেড়ায়। বিলাসীর হাতে ভাত খাওয়ায় অন্নপাপের অভিযোগ তুলে খুড়া গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে ভিটাছাড়া করে। মৃত্যুঞ্জয়ও সকল অবিচার মেনে নিয়ে বিলাসীকে বিয়ে করে সাপুড়ে জীবন বেছে নেয়। কিন্তু কপালে সুখ বেশিদিন সয় না তাদের। একদিন সাপ ধরতে গিয়ে খরিশ গোখরা সাপের কামড়ে মৃত্যু ঘটে মৃত্যুঞ্জয়ের। স্বামী হারানোর কষ্ট বিলাসী মেনে নিতে পারে না। তাই একসময় স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নেয় সে। গল্পটিতে সামাজিক সংকীর্ণ রীতিনীতি উপেক্ষা করে মানব-মানবীর প্রেমের মহিমা ফুটে উঠেছে।
বিলাসী গল্পের নোট 

মূলবক্তব্য: 

ভারতীয় বাঙালি সমাজে বিংশ শতাব্দীতেও প্রগতি কিংবা সুশিক্ষার প্রচার-প্রসার হয়নি তার প্রমাণ ‘বিলাসী’ গল্পটি। কারণ এ গল্পে জাতিভেদ প্রথায় আক্রান্ত সনাতন হিন্দু সমাজে যে নির্মমতা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা, মূর্খতা দেখা যায়; তার তুলনায় তখনকার ইউরোপ-আমেরিকায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশে-দেশে তখন জাতীয় জাগরণ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, শ্রমিক শ্রেণির উজ্জীবন ঘটছিল। অথচ সে সময় ভারতীয় বাঙালি সমাজ অন্নপাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে ব্যস্ত! এভাবেই সমাজের, রাষ্ট্রের পিছিয়ে থাকার, পরিবর্তনহীনতার চিত্র ‘বিলাসী’ গল্পের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। সেকালে চার-ক্রোশ হাঁটা বিদ্যার তেজে যারা গ্রামের মোড়ল বা মাথা হতেন তাদেরই একজন মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ো বা চাচা।
মৃত্যুঞ্জয়ের আপনজন কেউ না থাকায় খুড়ো লোলুপ দৃষ্টি দিয়েছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ের বিশাল সম্পত্তির ওপর। খুড়োর ষড়যন্ত্রেই সমাজে মৃত্যুঞ্জয়কে একঘরে হয়ে থাকতে হয়েছিল। নিঃসঙ্গ মৃত্যুঞ্জয় অসুখে মৃতপ্রায় হলে সমাজের কেউ এগিয়ে আসেনি। উচ্চবর্ণের কায়স্থ মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচাতে এগিয়ে আসে অনেক দূরের মালোপাড়ার এক বৃদ্ধ মালো ও তার মেয়ে বিলাসী। সেবা দিয়ে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচিয়ে তুললে মৃত্যুঞ্জয় তার সেবার প্রতিদান দিয়েছিল তাকে বিয়ে করে। এমন একটি মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে সে সময় বিলাসীর ভালোবাসার চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই ছিল না। কিন্তু সমাজ দেখল অনেক বড় পাপ ঘটে গেছে, আর সে পাপ প্রায়শ্চিত্তহীন ‘অন্নপাপ’। এ পাপে মৃত্যুঞ্জয় সমাজের কাছে দোষী হলে দোষের শাস্তি পেতে হয় বিলাসীকে। বাঙালি সমাজ জানে যার গায়ে জোর নেই তার গায়েই হাত তোলা যায়। গ্রামবাসী খুড়োর নেতৃত্বে বিলাসীকে নির্মম প্রহার করে মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করলে মৃত্যুঞ্জয় তার ২০-২৫ বিঘা সম্পত্তির মমতা করেনি; বরং সে তার জীবন সঁপে দিয়েছিল বিলাসীর ভালোবাসা, জীবন ও সমাজ-সংস্কৃতির কাছে। সাপুড়ে জীবন গ্রহণ করে সুখে থাকা মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীকে সহ্য করতে পারেনি অন্নপাপের সংস্কারাচ্ছন্ন বাঙালি সমাজ। সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয় মারা গেলেও গ্রামবাসী ভেবেছে অন্নপাপের কারণেই সে মারা গেছে। এমনই রোগাক্রান্ত, ঘুণে ধরা মৃতপ্রায় সমাজকে যারা ভৌতিক-অলৌকিক শাস্ত্রের বিধি-বিধানে যুগ যুগ ধরে টিকিয়ে রেখেছে, তারা তেলাপোকার মতো টিকে থাকতেই গর্বিত। ফলে অধর্ম-অপদেবতার বিধানে অজ্ঞতার ঘন অন্ধকার ভেদ করে ভারতীয় বাঙালি সমাজে তখনো মানবমুক্তির আলো পৌঁছায়নি। তাই এ গল্প শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্বাভাবিক বর্ণনাভঙ্গিতে সমাজকে ব্যঙ্গের খোঁচায় রক্তাক্ত করার এক নীরব প্রতিবাদ। একবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় বাঙালি সমাজ এখনো বিবাহকে বৈদিক মন্ত্রের চুক্তি বলেই মনে করে। যে সমাজে মানুষের মনের চেয়ে, বিবেকের চেয়ে, মানবিকতার চেয়ে অন্ধ ধার্মিকতা, মনগড়া কুসংস্কারাচ্ছন্নতা এবং মূর্খতার প্রাধান্য থাকে; সে সমাজ তেলাপোকার মতো টিকে থাকতেই সন্তুষ্ট থাকবে। মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসী এ গল্পে জাতিভেদ প্রথার বিপরীতে দাঁড়িয়ে পরাজিত হলেও অল্পবিদ্যায় অন্যদের মতো ভয়ংকর হয়ে ওঠেনি। মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসী বিরুদ্ধ সমাজ-ব্যবস্থার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে আত্মদান করে মৃত্যুঞ্জয় মানবিক মানুষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

লেখক সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

জন্ম ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই সেপ্টেম্বর পশ্চিম বাংলার হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে।

জীবিকা চব্বিশ বছর বয়সে মনের ঝোঁকে সন্ন্যাসী হয়ে গৃহত্যাগ করেছিলেন। সংগীতজ্ঞ হিসেবে খ্যাতির সূত্রে ঘটনাচক্রে এক জমিদারের বন্ধু হয়েছিলেন তিনি; জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন বর্মা মুন্নুকে অর্থাৎ বর্তমান মিয়ানমারে।

সাহিত্য-বৈশিষ্ট্য তিনি নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও বিচিত্র সব মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন বিভিন্ন উপন্যাসে। বিশেষ করে সমাজের নিচু তলার মানুষ তাঁর সৃষ্ট চরিত্রে অপূর্ব মহিমায় চিত্রিত হয়েছে। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের শিল্পীমানসের মৌলবৈশিষ্ট্য মানবতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা।

সাহিত্যকর্ম শরৎচন্দ্রের প্রথম মুদ্রিত রচনা কুন্তলীন পুরস্কারপ্রাপ্ত 'মন্দির' গল্পটি। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘দেবদাস’, ‘পল্লি-সমাজ', 'চরিত্রহীন’, ‘শ্রীকান্ত', 'গৃহদাহ', 'দেনাপাওনা' ইত্যাদি। এসব উপন্যাসে বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি অঙ্কনে তিনি অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছেন। তাঁর বহু উপন্যাস ভারতবর্ষের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। তাঁর কয়েকটি উপন্যাস বিদেশি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

পুরস্কার সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে।

মৃত্যু ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই জানুয়ারি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প ‘বিলাসী’ মূলত গ্রামীণ জীবনের কষ্ট, সমাজের সংকীর্ণতা, মানবিকতার দীপ্তি আর ভালোবাসার শক্তি নিয়ে লেখা। গল্পটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আছে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো—

১. ন্যাড়া (বর্ণনাকারী)

ন্যাড়া এই গল্পের কেন্দ্রীয় বর্ণনাকারী।
সে গ্রামীণ পরিবেশে স্কুলে যাওয়া, কষ্ট করে পড়াশোনা করা, বন্ধুদের সঙ্গে চলাফেরা—সবই তার চোখে দেখা।
মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর সঙ্গে তার পরিচয় পাঠককে পুরো ঘটনার ভেতরে নিয়ে যায়।
তার শিশুসুলভ কৌতূহল ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা গল্পকে প্রাণবন্ত করেছে।

২. মৃত্যুঞ্জয়

মৃত্যুঞ্জয় গ্রাম্য এক নিঃসঙ্গ যুবক।
বহু বছর ধরে থার্ড ক্লাসেই পড়ে আছে, যেন তার শিক্ষাজীবন থমকে গেছে।
তার পরিবার-পরিজন কেউ নেই, শুধু আছে একটি বাগান ও বিরূপ খুড়া।
নিজের শ্রমে সংসার চালালেও সমাজে তার সুনাম নেই—তাকে নিয়ে নানা গুজব রটানো হয়।
অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হলে বিলাসীর সেবায় সে বেঁচে ওঠে।
পরে সে বিলাসীকে বিয়ে করে, যা সমাজে তোলপাড় তোলে।

৩. বিলাসী

বিলাসী মালপাড়ার এক বুড়া সাপুড়ের মেয়ে।
বয়স কম হলেও অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়।
রাতদিন নিরলস পরিচর্যা করে মৃত্যুঞ্জয়কে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে।
তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগই গল্পের মূল শক্তি।
মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে তার বিয়ে সমাজ মেনে নিতে পারেনি, কিন্তু এ সম্পর্কই মানবিকতার জয়কে প্রতীকী করে তোলে।

৪. মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া

তিনি মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তির লোভী আত্মীয়।
ভাইপো সম্পর্কে নানা বদনাম রটিয়ে সমাজে তার অবস্থান দুর্বল করতে চান।
মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতায় কোনো সাহায্য করেননি, বরং পরে তার বিয়েকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধিতা করেন।
তিনি মূলত সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতার প্রতীক।

৫. গ্রামের সমাজ

গ্রামের মানুষরা মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়ে নিয়ে হৈচৈ তোলে।
তারা বিলাসীকে সাপুড়ের মেয়ে বলে হেয় করে, মৃত্যুঞ্জয়কে নিন্দা করে।
কিন্তু নিজেদের সাহায্যের দায়িত্ব তারা নেয়নি।
সমাজ এখানে সংকীর্ণতা, কুসংস্কার আর শ্রেণিবৈষম্যের প্রতিচ্ছবি।

কঠিন অংশের ব্যাখ্যা:

১. ‘মা-সরস্বতী খুশি হইয়া বর দিবেন কি, তাহাদের যন্ত্রণা দেখিয়া কোথায় যে তিনি লুকাইবেন, ভাবিয়া পান না।
শৈশবে গল্পকথক ও তার বন্ধুরা প্রায় দুই ক্লোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেতেন। এই পথে তাদের বিভিন্ন কষ্ট স্বীকার করতে হতো। বর্ষাকালে রাস্তার কাদামাটি আর গ্রীষ্মকালে ধুলোমাটি পাড়ি দেওয়া ভিন্ন স্কুলে যাওয়ার অন্য কোনো উপায় ছিল না। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী বিদ্যা ও কলার দেবী হলেন সরস্বতী। বিদ্যা অর্জনে বালকদের কষ্ট দেখে দেবীও লজ্জা পেয়ে যান-এমনটিই মনে করেছেন গল্পকথক।

২. ‘গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।’
মৃত্যুঞ্জয় ছিল সরল মনের অধিকারী। সে মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনে সহমর্মী হতো। কেউ তার কাছে কোনো সাহায্য চেয়ে ফিরে আসে না। স্কুলের বন্ধুদের দোকানের খাবার কিনে খাওয়ানো, বন্ধুদের বিপদে টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করাও তার অন্যতম গুণ ছিল। মৃত্যুঞ্জয়ের এই সরলতার সুযোগ নিত স্কুলের ছাত্রদের বাবারাও। তারা স্কুলের বেতন হারিয়ে গেছে, বই চুরি হয়ে গিয়েছে প্রভৃতি কথা বলে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে টাকা নিত। কিন্তু টাকার কথা পরে কেউ স্বীকার পর্যন্ত করত না। এমনকি তার সাথে কোনোদিন কথা হয়েছে এ বিষয়টিও তারা স্বীকার করতে চাইত না। সমাজে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন অবস্থান বোঝাতে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে, “গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।"

৩. ‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো। ’
মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হলে মালোপড়ার বুড়ো মালোর চিকিৎসা এবং তার মেয়ে বিলাসীর সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠে সে। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রভাব বিলাসীর চেহারায়ও পড়েছিল। ফলে তাকে দেখে সহজেই বোঝা যায় কী ধকল গেছে তার ওপর। অতি পরিশ্রমের ফল হিসেবে বিলাসী হয়ে পড়েছে অস্থিচর্মসার। ফুলকে ফুলদানিতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে যেমন কিছুদিন পর তা নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, বিলাসীর অবস্থাও অনেকটা তার মতোই হয়ে পড়ে।

৪. অন্নপাপ। বাপ রে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।’
হিন্দু ধর্মমতে অন্নপাপ অত্যন্ত গর্হিত কাজ। নিম্নবর্ণের বিলাসীর হাতে ভাত খেয়ে মৃত্যুঞ্জয় এই পাপ করেছিল। ফলে সাপের কামড়ে অপমৃত্যু হলে গ্রামের অনেকে বলাবলি করতে লাগল, অন্নপাপের ফলেই মৃত্যুঞ্জয়ের অপমৃত্যু হয়েছে। এই পাপের কারণেই সে মরার পর মুখাগ্নিটুকুও পায়নি। কেননা, এই পাপের কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই।

৫. ‘কিন্তু তাহার হৃদয় জয় করিয়া দখল করার আনন্দটাও তুচ্ছ নয়, সে সম্পদও অকিঞ্চিৎকর নহে।’
মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হলে বিলাসী তার সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। তিলে তিলে সেবার মাধ্যমে মৃত্যুর দুয়ার থেকে সে মৃত্যুঞ্জয়কে ফিরিয়ে আনে। আর বিলাসীর' এই সেবা মৃত্যুঞ্জয়ের মন জয় করার পাথেয় হয়েছিল। ফলে মৃত্যুঞ্জয় নিজের জাত বিসর্জন দিয়ে বিলাসীকে বিয়ে করেছিল। মৃত্যুঞ্জয় তুচ্ছ হতে পারে, কিন্তু তিল তিল করে তার হৃদয় জয় করার বিষয়টি যে তুচ্ছ নয় তা-ই বোঝাতে চেয়েছেন গল্পকথক।

৬. ‘টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয় এবং অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’
হিন্দু সমাজে রক্ষণশীল সমাজপতিদের ধারণা এ সমাজ যে শতাব্দীর পর শতাব্দী বহু প্রতিকূলতার মাঝেও টিকে আছে তা কেবল প্রচলিত রীতি-নীতির জোরেই। কিন্তু ‘বিলাসী’ গল্পের লেখক বলতে চান, বহু কাল ধরে টিকে থাকতেই সার্থকতা অর্জিত হয় না। বহু শতাব্দী ধরে টিকে থাকলেও হিন্দু সমাজ যে এখনও অনগ্রসর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সেটি 'বিলাসী' গল্পে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অতিকায় হাতি বর্তমানের হাতির চেয়ে অনেক বড়ো ছিল। কিন্তু তা প্রাগৈতিহাসিক যুগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তাদের ইতিহাসই কেবল অবশিষ্ট আছে। অন্যদিকে, তেলাপোকা প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীতে টিকে আছে। কিন্তু এই টিকে থাকা গৌরবের নয়।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url