HSC বাংলা প্রথম পত্র সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর sahityer-khela- CQ

 HSC বাংলা প্রথম পত্র সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

sahityer-khela- CQ


প্রশ্ন নং-০১

১. জ্ঞানের কথা জানা হয়ে গেলে আর জানতে ইচ্ছে করে না—তা জেনে মনে আনন্দও জন্মে না। সূর্য্য পূর্বাকালে ওঠে-এই তথ্য আমাদের মন টানে না। কিন্তু সূর্য্যােদয়ে যে সৌন্দর্য্য ও দেখার আনন্দ তা সৃষ্টিকাল থেকে আজও বিদ্যমান। এই সৌন্দর্য্য ও আনন্দানুভূতি পাঠক হৃদয়ে জাগিয়ে তোলাই সাহিত্যের কাজ। পাঠ ও অনুধাবনের মাধ্যমে রসিক পাঠকের হৃদয়ে তা সঞ্চারিত হয়। রস গ্রহণে অসমর্থ লোকই সাহিত্যের সৌন্দর্য্যও আনন্দানুভূতির পরিবর্তে আত্মহিত ও সন্তুষ্টি খোঁজে। সাহিত্যে নির্মিত সৌন্দর্য্য-অনুভূতি যদি লোকহিত সাধন করে, তাতে সাহিত্যের কুললক্ষণ নষ্ট হয় না। শুধু লোকহিত ও সন্তুষ্টির প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে, সাহিত্যিক শিক্ষকে রূপান্তিরত হন।

ক. ‘রামায়ণ’ কে রচনা করেছেন?

খ. ‘অতি সস্তা খেলনা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

গ. ‘সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত’ হওয়ার বিষয়টি উপরের অনুচ্ছেদে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, বুঝিয়ে দাও। 

ঘ. ‘শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্নধর্মী’—বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে কতখানি প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর। উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

১ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘রামায়ণ’ রচনা করেছেন মহর্ষি বাল্মীকি।

খ. প্রবন্ধে ‘অতি সস্তা খেলনা’ বলতে সেই সাহিত্যকর্মকে বোঝানো হয়েছে, যা পাঠকদের মনোরঞ্জনের জন্য খুবই নিম্নমানের ও অগভীর হয়ে থাকে। এটি এমনভাবে রচিত হয়, যাতে তা সহজেই জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাজারে বিক্রি হয়। এ ধরনের রচনার মূল উদ্দেশ্য পাঠকদের সাময়িক বিনোদন দেওয়া, গভীর সাহিত্যিক মান বজায় রাখা নয়।

লেখক এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ধরনের সস্তা সাহিত্য মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রচিত হয় এবং তা দীর্ঘমেয়াদি মূল্য বা শিল্পের প্রকৃত আনন্দ দিতে ব্যর্থ। এর ফলে সাহিত্য তার স্বকীয়তা ও গুণগত মান হারায়, এবং লেখকের জন্য এটি মনস্তুষ্টির কারণ হয় না।

গ. উপরের অনুচ্ছেদে ‘সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত’ হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সাহিত্য মূলত সৌন্দর্য্য ও আনন্দ সৃষ্টির মাধ্যম। এটি পাঠকের হৃদয়ে অনুভূতির জাগরণ ঘটায় এবং রসিক পাঠকের হৃদয়ে সেই সৌন্দর্য্য ও আনন্দ অনুভব করায়। কিন্তু যখন সাহিত্য তার প্রকৃত স্বভাব-সৌন্দর্য্য সৃষ্টি ও আনন্দদান-ত্যাগ করে কেবলমাত্র আত্মহিত বা লোকহিতের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তা স্বধর্মচ্যুত হয়।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, সাহিত্য যখন পাঠকদের কেবল মনোরঞ্জনের জন্য ‘অতি সস্তা খেলনা’ হয়ে ওঠে, তখন তা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, লেখক বলেছেন যে, সাহিত্য যদি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা আর সাহিত্য থাকে না; তা হয়ে ওঠে শিক্ষকের হাতের যন্ত্র। এ ক্ষেত্রে সাহিত্য তার আনন্দদানের ধর্মকে ত্যাগ করে পাঠকদের কেবল জ্ঞান বিতরণ বা মনোরঞ্জনের জন্য কাজ করে।

উপরের উদ্দীপকের কথা অনুযায়ী, সাহিত্যিক যদি পাঠকদের মনোরঞ্জন বা লোকহিতের জন্য বিশেষ করে লেখা শুরু করেন, তবে তিনি শিক্ষকের ভূমিকায় পরিণত হন। এতে সাহিত্যের আনন্দ ও সৌন্দর্য্যরে প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ সাহিত্য তখন আর স্বতঃস্ফূর্ত রসসৃষ্টি নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপূরণের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

সুতরাং, সাহিত্যের প্রকৃত ধর্ম থেকে সরে গিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষাদান, মনোরঞ্জন বা লোকহিতের জন্য লেখা শুরু করলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়। সাহিত্যের সৌন্দর্য্য ও আনন্দানুভূতির মধ্যেই তার প্রকৃত লীলা নিহিত, যা পাঠকের হৃদয়ে রসসঞ্চার করে। এই প্রকৃত ধর্ম থেকে বিচ্যুতি ঘটলে সাহিত্যের প্রকৃত মহিমা লুপ্ত হয়।

ঘ. উপরের অনুচ্ছেদে ‘শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্নধর্মী’ এই বক্তব্যটি যথেষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এতে পরিষ্কারভাবে দেখানো হয়েছে যে, সাহিত্য মূলত সৌন্দর্য্য সৃষ্টি এবং পাঠকের হৃদয়ে আনন্দ জাগ্রত করার জন্য। অন্যদিকে, শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষের জ্ঞানচর্চা, উপদেশ বা বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন। শিক্ষার লক্ষ্য হলো মানুষের মনের অভাব পূরণ করা, তাকে কোনো বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা প্রদান করা। এটি পাঠকের জন্য বাধ্যতামূলক এবং অনেক সময় আনন্দহীন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্য্য পূর্বদিকে ওঠে-এই তথ্য জেনে মানুষ মুগ্ধ হয় না, কারণ এটি কেবল একটি বাস্তব জ্ঞান। কিন্তু সূর্য্যােদয়ের সৌন্দর্য্য, রঙের খেলা ও প্রকৃতির ছন্দ পাঠকের মনে যে আনন্দ সৃষ্টি করে, সেটিই সাহিত্য।

লেখক আরও উল্লেখ করেছেন, সাহিত্য কখনো শিক্ষকের মতো পাঠকের জন্য কিছু চাপিয়ে দেয় না। সাহিত্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি হয় এবং তা পাঠকের মনের গভীরে আনন্দের সঞ্চার করে। সাহিত্যের মূল লক্ষ্য হলো রসিক পাঠকের হৃদয়ে রসের উদ্রেক ঘটানো। এর বিপরীতে, শিক্ষার কাজ তথ্য সরবরাহ ও উপদেশ দেওয়া। যদি সাহিত্যকে শিক্ষার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে সাহিত্য তার নিজস্ব ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়।

উদাহরণ হিসেবে, লেখক বলেছেন বাল্মীকি ‘রামায়ণ’ রচনা করেছিলেন মুনিঋষিদের আনন্দদানের জন্য, শিক্ষা দেওয়ার জন্য নয়। এটি সাহিত্য হিসেবে চিরকালীন এবং পাঠকের হৃদয়ে আনন্দের সঞ্চার করে। অপরদিকে, শিক্ষামূলক রচনাগুলি যেমন ‘যোগবাশিষ্ঠ’ জনসাধারণের মধ্যে খুব কমই আনন্দ সৃষ্টি করে, কারণ এটি লেখা হয়েছিল শিক্ষার উদ্দেশ্যে, সাহিত্যের আনন্দদানের জন্য নয়।

উত্তরের পক্ষে যুক্তি: সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য আনন্দ প্রদান ও সৌন্দর্য্যরে সঞ্চার, যা পাঠকের মনের গভীর অনুভূতিকে জাগ্রত করে। অন্যদিকে, শিক্ষার কাজ মানুষের মনকে একটি নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করা। প্রবন্ধের ভাষ্য ও উদ্দীপক উভয়েই এই ভিন্নতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। সুতরাং, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্ন এবং সাহিত্যকে শিক্ষার মাধ্যম বানালে তার মৌলিকতা নষ্ট হয়।

প্রশ্ন নং-০২

২. মানুষের একটি চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধি অন্যের কাছে প্রকাশ করা। জয়নুল আবেদীনের মতো ছবি এঁকে, কিংবা রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা-গান লিখে নিজ হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা সে অন্য মনে ছড়িয়ে দিতে চায়। এভাবে সে জগতের সকল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। চায় লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে। এ কাজ তখনই সফল হয়, যখন রঙে, ঢঙে, আকারে-প্রকারে, ভাষায়-সুরে, ছন্দে, ইঙ্গিতে নিখুঁত রূপ বা অনুভূতি অন্য মনে প্রতিফলিত ও সঞ্চারিত করা যায়। এ কাজ যে পারে, শিল্পরাজ্যের সেই রাজা। ধর্মের জাতপাত, বর্ণভেদ সেখানে একাকার।

ক. রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য্যরে নাম লেখো।

খ. ‘মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ।’—কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের কোন বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়? আলোচনা কর।

ঘ. উপরের অনুচ্ছেদের ‘লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ বাক্যাংশ অবলম্বনে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’ প্রসঙ্গে তোমার মতামত উপস্থাপন কর।

২ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ফরাসি ভাস্কর অগাস্ট রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য্যরে নাম ‘নরকের দুয়ার।’

খ. মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন এবং আনন্দদানের জন্যই সংঘটিত হয়। খেলা শুদ্ধ আনন্দ দেয়, যা শ্রেণি বা ভেদাভেদ ছাড়াই সবার জন্য সমান। এটি মানুষের মন ও দেহকে সতেজ রাখে এবং জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। খেলায় কোনো স্বার্থ বা উপকারের আকাঙ্ক্ষা নেই, যা একে অন্য সব কার্য্যকলাপ থেকে আলাদা করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে।

গ. উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘ধর্মের জাতপাত, বর্ণভেদ সেখানে একাকার’ অংশটি প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই। রাজার ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেবার অধিকার আছে।’ এটি বোঝায় যে শিল্প এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য, জাতপাত কিংবা আর্থিক পার্থক্য কোনো বাধা হতে পারে না।

উদ্দীপকে শিল্পের ক্ষেত্রে যে সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বক্তব্যকে সমর্থন করে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, শিল্পের জগতে একজন সাধারণ মানুষও তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে। ধর্ম, জাতপাত, বা শ্রেণিগত ভেদাভেদ শিল্পের জগতে কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ সেখানে মানুষের অনুভূতি, রূপচেতনা এবং সৃষ্টিশীলতার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন হয়।

তাই, উদ্দীপকের বক্তব্য ও প্রবন্ধের ভাবনার মিল এই যে, খেলাধুলা ও শিল্প-উভয় ক্ষেত্রই বৈষম্যমুক্ত এবং সমতার একটি নিখুঁত উদাহরণ। এখানে সবাই সমান অধিকার নিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে পারে এবং তা মানুষের মন জয় করে। এটি প্রমাণ করে যে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে শিল্প ও খেলা সর্বজনীন।

ঘ. উদ্দীপকের ‘লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ বাক্যাংশ এবং ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’ একটি অভিন্ন চেতনার বহিঃপ্রকাশ। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের আকাঙ্ক্ষা নিজ সৃষ্টির মাধ্যমে নিজস্ব অনুভূতি ও উপলব্ধিকে জগৎব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এবং সকলের সঙ্গে একটি সংযোগ স্থাপন করা।

উদ্দীপকের বিশ্লেষণ: জয়নুল আবেদীনের ছবি বা রবীন্দ্রনাথের কবিতা-গান মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে, তাদের অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে। এ সৃষ্টিকর্মগুলো শুধু শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, এটি হয়ে ওঠে বিশ্বমানবের অভিজ্ঞতা। শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেকে সীমাবদ্ধ ব্যক্তিসত্তা থেকে মুক্ত করে এবং বৃহৎ মানবিকতাবোধের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। এর মাধ্যমে শিল্পীর সৃষ্টি মানবসমাজে চিরকাল বেঁচে থাকে।

প্রবন্ধের ভাবনার সঙ্গে সংযোগ: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, খেলার জগৎ বা শিল্পের জগৎ সেই স্থান যেখানে ব্যক্তি বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বমানবের সঙ্গে একাত্ম হয়। এটি একধরনের সর্বজনীন আনন্দের সঞ্চার করে, যা জাত-ধর্ম-বর্ণের বাধা অতিক্রম করে। উদাহরণস্বরূপ, খেলার ময়দানে যেমন রাজা ও প্রজার সন্তান একসঙ্গে খেলায় মেতে ওঠে, তেমনি শিল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমতা ও সংযোগ সৃষ্টি হয়।

মতামত উপস্থাপন: ‘লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ এবং ‘বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানো’-এই দুইয়ের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। শিল্প, সাহিত্য বা খেলাধুলা, সব ক্ষেত্রেই মানুষের এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়। একক সত্তাকে ছাড়িয়ে বৃহত্তর মানবিক চেতনার সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের অস্তিত্বকে সার্থক মনে করে। এর ফলে সৃষ্টি বিশ্বমানবের মননে স্থান পায় এবং কালের সীমা অতিক্রম করে।

সুতরাং, লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকা মানে কেবল ব্যক্তিসত্তার প্রকাশ নয়, এটি বৃহৎ মানব সমাজের সঙ্গে নিজের সত্তা ও সৃষ্টিকে মিলিয়ে দেওয়ার একটি সাধনা। প্রবন্ধের বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোর ধারণাটি এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

প্রশ্ন নং-০৩

৩. স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলার ব্যাস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পারার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন, তোমরা এমন দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে, ব্যথা পাবে। তার চেয়ে এসো সবাই বসে লেখাপড়া করি- জ্ঞান বাড়বে, বিদ্যাবুদ্ধি বাড়বে।’ একটি শিশু বলল, ‘মজাটা কমবে।’ সাথে সাথে সব শিশুরা হেসে উঠল। একে একে সবাই ছুটে পালাল, খেলার মাঠে মনের আনন্দে শুরু করল খেলা।

ক. ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই কোথায়?

খ. ‘যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরে পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের বেলুমামা ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? কেন?

ঘ. “সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্যে এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন।”—এ বিষয়ে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

৩ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই খেলার মাঠে।

খ. আনন্দবিহীন উপরি পাওনার লোভে যে খেলা হয় তাকে জুয়াখেলার সাথে তুলনা করা যায়।

সাহিত্য হবে নিছক আনন্দের জন্য আর আনন্দময় সাহিত্যই হলো প্রকৃত সাহিত্য। প্রমথ চৌধুরী তাঁর এমন বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন। যে, সাহিত্য কেবলমাত্র সাহিত্যিকের হৃদয় নিঃসৃত আনন্দের ঝরনাধারা দিয়েই প্রবাহিত হবে। কেননা, উদ্দেশ্য-প্রধান সাহিত্য রচনা করলে বা অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচনা করলে তা হবে অত্যন্ত নিম্নমানের সাহিত্য, যা অনেকটা জুয়াখেলার মতোই। কেননা, এতে উপরি পাওনার আশা থাকে। আর প্রকৃত সাহিত্যে থাকে উদ্দেশ্যবিহীন স্বতঃপ্রণোদিত খেলার মতোই নির্মল আনন্দ।

গ. উদ্দীপকের বেলুমামা কেবল শিক্ষাদানকেই মুখ্য মনে করায় তিনি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের শিক্ষক চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, কাব্য পড়ার ও বোঝার জিনিস কিন্তু শিক্ষকের কাজ হলো বই পড়ানো ও বোঝানো। ফলে কবি- সাহিত্যিকদের সাথে পাঠকের মনের মিলন ঘটে না। শিক্ষকরা সাহিত্যের রূপ দেখান না শুধু তার গুণ শোনান। শিক্ষকদের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা কাব্য সম্বন্ধে নিগূঢ় তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে পারে ঠিকই কিন্তু রস আস্বাদন করতে পারে না। কারণ শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান অর্জনকেই মুখ্য বলে মনে করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, একদল শিশু আপন মনের আনন্দে মাঠে খেলায় ব্যস্ত। বেলুমামা সে মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের আঘাত পাওয়ার ভয় দেখিয়ে খেলতে নিষেধ করেন। তিনি শিশুদের জ্ঞান বাড়াতে বিদ্যাবুদ্ধি বাড়াতে পড়ালেখা করতে বলেন। ফলে আনন্দের বিপরীতে জ্ঞানলাভকে মুখ্য হিসেবে দেখার জন্য উদ্দীপকের বেলুমামা আলোচ্য প্রবন্ধের স্কুলমাস্টার চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়।

ঘ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন আর তা হলো আনন্দলাভ।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী বলেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দদান করা। শিক্ষাদান করা নয়। মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে সাহিত্যের রসাস্বাদন করবে। তিনি সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন খেলাধুলার। তাঁর মতে, খেলাধুলায় যেমন নিছক আনন্দই প্রধান, সাহিত্যেও তাই।

উদ্দীপকে দেখা যায়, একদল শিশু আপন মনে স্কুল মাঠে খেলায় ব্যস্ত। বেলুমামা তাদের খেলা ছেড়ে পড়ালেখা করতে বলেন। কিন্তু শিশুরা একসাথে সবাই ছুটে পালায়। কারণ তারা জানে খেলায় আনন্দ বেশি। তারা তাই সবাই মনের আনন্দে মাঠে খেলা শুরু করে।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, খেলাধুলায় যেমন আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই, সাহিত্যের উদ্দেশ্যও তেমনি একমাত্র আনন্দদান করা। মানুষের মনে সাড়া জাগানো। বিষয়টি উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্যের মতো। কারণ তারা জানে খেলা বাদ দিয়ে শুধু পড়াশোনা করলে মজা কমবে। খেলাধুলার মধ্যেই রয়েছে আনন্দ। এ কারণে বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন নং-০৪

৪. প্রত্যক্ষভাবে কোন সামাজিক, নৈতিক বা রাষ্ট্রীয় শিক্ষাদান বা মতবাদ প্রচার করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। যে সাহিত্য  মতবাদ প্রচার উগ্র হয়ে উঠেছে, তা সৃষ্টি বা শিল্পকর্ম হিসেবে ব্যর্থ হয়েছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেন, জিনিসটা হচ্ছে সৃষ্টির ক্ষেত্রে জীবদেহের অন্তর্গত কঙ্কালের মতো। ওটা ভিতর থেকেই সাহিত্যকে জোগাবে মাথা তুলে দাঁড়াবার শক্তি, বাইরে থেকে প্রকাশ পাবে তার বিচিত্র দেহ-সৌষ্ঠব, তার লাবণ্য।

ক. শিব কে?

খ. ‘এই পুতুল করা হচ্ছে তার খেলা।’—কার এবং কেন? 

গ. ‘যে সাহিত্য মতবাদ প্রচার উগ্র হয়ে উঠেছে,তার সৃষ্টি বা শিল্পকর্ম হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে।’—উক্তিটির সাথে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক ব্যাখ্যা কর।

 ঘ. উদ্দীপক ও ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বর্ণিত সাহিত্যর প্রকৃত উদ্দেশ্য মূল্যায়ন কর।

৪ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. শিব হলো হিন্দুধর্মে মঙ্গলকারী দেবতার নাম।

খ. শিল্পীর খেলার মাধ্যমেই শিল্পরাজ্যের সব অক্ষয় সৃষ্টির জন্ম—লেখকের এই মনোভাবই ব্যক্ত হয়েছে আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে। লেখকের মতে, শিল্প সৃষ্টিতে শিল্পীর মনের আনন্দেরই প্রকাশ ঘটে। শিল্প সৃষ্টির উপাদান নিয়ে শিল্পী খেলায় মেতে থাকেন। আর এই খেলার ফলেই তার সৃষ্টিকর্ম নানান অবয়ব পায়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী তাঁর রচনায় ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁর শিল্পসৃষ্টির উদাহরণ টেনেছেন। কাদামাটি নিয়ে পুতুল গড়া খেলার মাধ্যমেই তাঁর সব বিখ্যাত সৃষ্টির জন্ম হয়েছে। আর এই খেলাই হলো পৃথিবীর সব সৃজনশীল কর্মের মূল।

গ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্যের সৃষ্টি বা আনন্দ দানের দিকটি প্রশ্নোক্ত উক্তিটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানানোর জন্যই লেখককে তাঁর নিজস্ব ভাব প্রকাশ করতে হয়। তাঁর মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিছক আনন্দদান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। লেখকের উদ্দেশ্য আনন্দ সৃষ্টি করা। কিন্তু এ উদ্দেশ্য ব্যতীত লেখক যদি কোনো ফললাভের আশায় কলম ধরেন তাহলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সাহিত্যের ভিতর যদি মতবাদ প্রচার উগ্র হয়ে উঠে তবে তা শিল্পকর্ম হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। প্রমথ চৌধুরীও সাহিত্যকে আনন্দদানের একমাত্র মাধ্যম বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, আনন্দদান ব্যতীত সাহিত্যের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকা উচিত নয়। সুতরাং উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের উক্তিতে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য রস সৃষ্টি বা আনন্দদান, মতবাদ প্রচার নয়।

ঘ. উদ্দীপক ও প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটিতে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য আনন্দদান সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দদান করা। শিক্ষাদান করা এর উদ্দেশ্য নয়। প্রাবন্ধিক বলেন, শিক্ষা হলো সেই বস্তু যা লোকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়, যা জোর করে গেলানো হয়। তাতে আনন্দ থাকে না। তাই শিক্ষা বা মত প্রকাশ করতে গেলে সাহিত্য তার বৈশিষ্ট্য ও গুণ হারায়।

উদ্দীপকের ভাবানুসারে, মতবাদ বা শিক্ষা মানুষকে বিশ্বের খবর জানাতে পারে কিন্তু মনকে জাগাতে পারে না। আর মনের পরিতৃপ্তিই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। তাতেই শিল্পকর্ম তৈরি হয় যাতে রস থাকে। এ রস মানুষের ব্যক্তিত্ব, মনন, মনুষ্যত্ব ও মানসিকতার জন্ম দেয়। আর যদি মতবাদ প্রচারই মূলকথা হয় তাহলে সাহিত্য তার গুণ হারায় এবং পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না। সুতরাং এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, আনন্দদানই সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই মূলকথা হলো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান ছাড়া অন্য কিছু হওয়া উচিত নয়। সাহিত্যে সাহিত্যিকের ব্যক্তি-মননের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটবে। শুধু গভীর তাৎপর্য্যপূর্ণ ভাব প্রকাশ করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়।


প্রশ্ন নং-০৫

৫. আসিফ ও নয়ন দুই ভাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে আসিফ আনন্দ পায় সাহিত্য পড়ে আর নয়ন আনন্দ পায় ক্রিকেট খেলে। উপন্যাস আসিফের খুব পছন্দ। সে মনে করে, উপন্যাস পড়ার মত আনন্দ আর কিছুতেই পাওয়া যায় না। তাছাড়া মানুষের মন যে কত বিচিত্র হতে পারে তা উপন্যাস না পড়লে সে বুঝতে পারত না। অন্যদিকে, নয়নের প্রবল আগ্রহ কিক্রেট খেলার প্রতি। সে কিক্রেট খেলে যে আনন্দ পায় তা আর কোথাও পায় না। খেলার ফলে তার মন ও শরীর প্রফুল্ল থাকে।

ক. লেখকেরা দশের কাছে কীসের প্রত্যাশা রাখেন?

খ. ‘খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দিপকের সঙ্গে ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের বক্তব্যর কোন সাদৃশ্য আছে কি? আলোচনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের আগ্রহের বিষয় ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক।’—‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

৫ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. লেখকেরা দশের কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন।

খ. খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্ক্রম কর্ম, কারণ এতে কোনো কিছু লাভের বা পাওয়ার অভিপ্রায় থাকে না।

লেখকের মতে, মানুষ খেলায় আনন্দ ব্যতীত অন্য কোনো ফলের আকাঙ্ক্ষা করে না। যদি তা করে তবে তা হয় জুয়াখেলা। প্রাবন্ধিক এরূপ নিষ্কাম খেলার সাথে সাহিত্যের সাদৃশ্য উপস্থাপন করেছেন। খেলার মতো সাহিত্যের উদ্দেশ্যও আনন্দ লাভ করা। অর্থাৎ খেলা বা সাহিত্য দুইটিই জীবজগতে হতে হবে কোনো কামনা ছাড়া কাজ। যে কাজের উদ্দেশ্য হবে শুধু আনন্দের প্রাপ্তি।

গ. ‘সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাহিত্য ও খেলার উদ্দেশ্যগত তুলনা করার দিকটির সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকের আসিফ লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে সাহিত্য পড়ে আনন্দ পায়, আর নয়ন ক্রিকেট খেলে আনন্দ পায়। আসিফের ধারণা, উপন্যাস পড়ার মতো আনন্দ আর কোনো বিষয়ে পাওয়া যায় না। আর নয়ন ক্রিকেট খেলে যে আনন্দ পায় তা অন্য কিছুতেই পায় না। আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক খেলাধুলার উদ্দেশ্যকে যেমন অভিন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, উদ্দীপকেও আসিফ ও নয়নের দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে একই সত্যের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাদের শখ আপাতদৃষ্টিতে বিপরীত মনে হলেও উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের দিক থেকে উভয়ের মধ্যে রয়েছে অনন্য সাদৃশ্য—প্রাবন্ধিক যাকে চিহ্নিত করেছেন নির্মল আনন্দলাভ হিসেবে। এদিক থেকে 'সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বক্তব্যের সঙ্গে উদ্দীপকটির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

ঘ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে আলোচনা করা হয়েছে, তার সঙ্গে উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ভাইয়ের আগ্রহের বিষয়ে রয়েছে তাৎপর্য্যপূর্ণ সাদৃশ্য।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্যের সঙ্গে খেলাধুলার উদ্দেশ্যের অভিন্নতা নির্দেশ করেছেন। প্রাবন্ধিকের মতে, বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্যনতুন সম্বন্ধ সৃষ্টি করাই কবি-সাহিত্যিকদের নৈমিত্তিক কর্ম। এ কর্ম সম্পাদনের জন্য উদ্দেশ্যহীন আনন্দের পথ অবলম্বন করে অগ্রসর হতে হয়। মানুষ খেলা দেখতে কিংবা খেলা করতে ভালোবাসে, কারণ তা উদ্দেশ্যহীন। সাহিত্যও তেমনই নিষ্কাম, উদ্দেশ্যবিহীন কর্ম।

উদ্দীপকের আসিফ ও নয়নের আগ্রহের বিষয় ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক। তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য হলো আনন্দলাভ করা। একজন উপন্যাস পড়ে বা সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে আনন্দলাভ করে, অন্যজন ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে আনন্দলাভ করে। তারা দুভাই দুটি ভিন্ন বিষয় থেকে একইভাবে আনন্দলাভ করে মনকে প্রফুল্ল রেখেছে।

উদ্দীপকের বক্তব্যের সাহিত্য পড়া ও ক্রিকেট খেলার মূল উদ্দেশ্য আনন্দলাভ। প্রাবন্ধিকের বক্তব্যও একই। তিনি মনে করেন, রসিক পাঠক কোনো প্রত্যাশা নিয়ে কাব্য পাঠ করতে যায় না। যে খেলার ভিতরে কোনো আনন্দ নেই বরং উপরি পাওনা লাভের আশা রয়েছে, তাকে খেলা না বলে জুয়াখেলা বলতে হয়। খেলার উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দ দেওয়া। আবার সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্যও আনন্দ দেওয়া। প্রশ্নোল্লিখিত মন্তব্যটি তাই যথার্থ।

প্রশ্ন নং-০৬

৬. বন্ধুর পরামর্শে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গল্পগুচ্ছ’-এর কয়েকটি গল্প পড়েই বিরক্ত হয়ে গেল সুমন। তার ধারণা, এসব হরহামেশা ঘটে যাওয়া কাহিনি পড়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। তার চেয়ে বরং সাধারণ জ্ঞানের বই পড়লে অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায়। তার বোধে এটুকু ধরা পড়ে না যে, সাহিত্য মানুষকে সরাসরি তথ্য জানানোর জন্য রচিত হয় না। সাহিত্য অনুভূতির জগতে সাড়া ফেলে সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। আর তখনই। সে হয়ে উঠে সুশিক্ষিত।

ক. শাস্ত্রমতে কাব্যরস কেমন?

খ. ‘কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত’—কেন?

গ. উদ্দীপকের সুমনের মানসিকতার সাথে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের অসংগতিপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে শিক্ষা ও সাহিত্যের কীরূপ সম্পর্ক প্রতীয়মান হয়েছে? বিশ্লেষণ করো।

৬ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. শাস্ত্রমতে কাব্যরস অমৃত।

খ. কবি ও শিক্ষকের মতিগতি সম্পূর্ণ বিপরীত—উক্তিটির মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কথাই বলতে চেয়েছেন।

প্রাবন্ধিকের মতে শিক্ষা বিষয়টি মানুষ সাধারণত নিতান্তই অনিচ্ছার সাথে গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। আর এই করার কাজটির দায়িত্বে থাকেন শিক্ষক। অন্যদিকে, কবির উদ্দেশ্য সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনের জাগরণ ঘটানো। এটি বল প্রয়োগে নয় বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই কেবল সম্ভব। এ কারণেই শিক্ষক ও কবির মতিগতি সম্পূর্ণ বিপরীত বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের সুমনের মানসিকতায় সাহিত্যের প্রতি বিমুখতা প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রমথ চৌধুরী রচিত ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাথে অসংগতিপূর্ণ।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যচর্চার উপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। লেখকের মতে, সাহিত্য মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলে। মানুষের মনের চাহিদা মেটাতে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে। মানুষের মনোজগতের সাথেই এর সম্পর্ক।

উদ্দীপকের সুমন সাহিত্যচর্চাকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে গণ্য করে কেবল পুঁথিগত বিদ্যালাভের প্রতি মনোনিবেশ করাকে শ্রেয় মনে করেছে। সে অনুধাবন করতে পারেনি যে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠার জন্য শিক্ষালাভের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও জরুরি। পেশা ও জীবিকার জন্য সহায়ক হলেও মানসিকতা গঠনের ক্ষেত্রে কেবল শিক্ষাই যথেষ্ট নয় বরং শিক্ষালাভ ও সাহিত্যচর্চা এই দুয়ের সংমিশ্রণেই সে হয়ে উঠতে পারে সুশিক্ষিত। অর্থাৎ প্রবন্ধে উল্লিখিত সাহিত্যচর্চার গুরুত্বের বিষয়টি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে উদ্দীপকের সুমন।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বিশ্লেষণে বলা যায়, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বিপরীতধর্মী।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখক শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষার তুলনায় মহত্তর। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার। শিক্ষা ও সাহিত্যের তাৎপর্য্য ভিন্ন। লেখকের মতে, শিক্ষা হলো সেই বস্তু যা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অপরপক্ষে, কাব্যরস মানুষ শুধু স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে; কেননা, শাস্ত্রমতে সে রস অমৃত।

উদ্দীপকের সুমনের ভাবনা অনুসারে শিক্ষা মানুষের যে উপকারে আসে সাহিত্য মানুষের সেরকম কোনো উপকারে আসে না। সাহিত্য সরাসরিভাবে মানুষকে কোনো তথ্য বিতরণ করে না। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ অনুযায়ী এটি সাহিত্যের উদ্দেশ্যও নয়। এটি শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষা মানুষ গ্রহণ করে নিতান্তই বাধ্য হয়ে। মানুষ যা বাধ্য হয়ে করে তা থেকে সে আনন্দ পায় না। উদ্দীপক অনুসারে সুমনের বোধের বাহিরে থাকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য। সাহিত্য মানবাত্মাকে জাগ্রত করে, অনুভূতির জগতে সাড়া ফেলে, যা সুমন বুঝতে পারে না।

উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ উভয়ের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত মূলভাব পর্য্যালোচনায় নিলে দেখা যায় শিক্ষা ও সাহিত্য পরস্পর বিপরীতধর্মী। প্রবন্ধ মতে সাহিত্য মানুষকে আনন্দ দেয়, শিক্ষা গলাধঃকরণ করে। উদ্দীপক মতে শিক্ষা বাহ্যিক জীবনের কাজে লাগে সাহিত্য অনুভূতির জগৎকে জাগ্রত করে।

প্রশ্ন নং-০৭

৭. মুনির বৃষ্টির মধ্যে দাওয়ায় বসে ছিল। গাড়ির সামনেই সদ্য ধানকটা একটি খেতে একদল বালক বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আসলে বালকেরা একটি জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে তা নিয়ে ছোটাছুটি করছে। সে লক্ষ্য করল,বালকেরা এতে খুবই আনন্দ পাচ্ছে। উদ্দেশ্যহীন এ খেলাচ্ছলে আনন্দ-অবগাহনের সঙ্গে সাহিত্যচর্চার যে তুলনা প্রমথ চৌধুরী করেছেন, মনিরের কাছে তা অত্যন্ত জুতসই বলে মনে হলো।

ক. সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য কী?

খ. সাহিত্যের মাধ্যমে কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের শিশুদের আনন্দ-অবগাহনের সঙ্গে সাহিত্যচর্চার যে তুলনা প্রমথ চৌধুরী করেছেন—তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মুনিরের উপলব্ধির যথার্থতা তোমার পঠিত ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া।

খ. মনোরঞ্জন করা যদি সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে, তাই সাহিত্যের মাধ্যমে কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয়।

প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে মনোরঞ্জন বা শিক্ষাদানের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণের বিপক্ষে। সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা।

মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে যায়। লেখক তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য কৃতিত্ব, প্রশংসা ও বাহবা দাবি করতে পারেন। কিন্তু হাততালি ও বাহবা পাওয়া যাদি সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

গ. প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে মননশীল দৃষ্টিভঙ্গির অলোকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুচিন্তিত যে মতবাত করেছেন তা উদ্দীপকে উদ্দেশ্যহীন খেলার সঙ্গে তুলনীয়।

প্রমথ চৌধুরী ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চাকে খেলা বলে অভিহিত করেছেন। সাহিত্য জগতে যাঁরা এ খেলা খেলতে চান শুধু তাঁদের কপালেই প্রশংসা জোটে। মানুষ ক্রীড়াপ্রিয়, তারা আনন্দের জন্যই খেলে। খেলার আনন্দ যেহেতু নিরর্থক, সেহেতু এতে সকলের অধিকার সমান। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও একই উদ্দেশ্যে বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। কবি-সাহিত্যিকের সৃষ্টিও বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের সৃষ্টি অভাব দূর করার জন্য নয়, এর মূল লক্ষ্য স্ফূর্তি লাভ করা। লেখক আরও স্পষ্ট করে বলেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।

উদ্দীপকে সদ্য ধানকাটা একটি খেতে একদল বালক জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছোটাছুটি করছে। এতে বালকরা আনন্দই পাচ্ছিল। শিশুরা যেমন ফুটবল খেলাচ্ছলে উদ্দেশ্যহীন ছোটাছুটিতে আনন্দলাভ করছিল, আলোচ্য প্রবন্ধের মতে, সাহিত্যও তেমনই খেলাচ্ছলে পাঠককে আনন্দ দেয়। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যরাজ্যে মনতুষ্টিকর খেলনা পেয়ে পাঠক তুষ্ট হতে পারে, কিন্তু লেখকের তাতে আনন্দ আসে না। আবার পাঠক আজ যে খেলনাকে আদর করছে, কাল তা নাও করতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের শিশুদের উদ্দেশ্যের মতোই সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া আবশ্যক।

ঘ. উদ্দীপকে মুনির বালকদের ফুটবল খেলাচ্ছলে জাম্বুরাকে নিয়ে ছোটাছুটির মধ্যে আনন্দ উপভোগের যে দৃশ্য দেখতে পেয়েছিল তা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

প্রমথ চৌধুরী ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে খেলাচ্ছলে আনন্দের তুলনা করা হয়েছে। লেখকের মতে, সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দদান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। হাততালি বা বাহবা পাওয়ার জন্য যদি সাহিত্য রচিত হয় তাহলে সাহিত্য তার আসল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে। কেননা, মনোরঞ্জনের সামগ্রী আজ কেউ পছন্দ করতে পারে, কিন্তু কাল খেলতে খেলতে ভেঙেও ফেলতে পারে। খেলাচ্ছলে সাহিত্যচর্চায় আনন্দদানই সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য। আবার সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদানও নয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞানের বিষয় জানানো। পক্ষান্তরে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনে সাড়া জাগানো।

উদ্দীপকের বালকেরা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে যে খেলা খেলছিল, তা নিছক আনন্দ-অবগাহনের জন্যই। কোনো উদ্দেশ্য কাজ করেনি তাদের এ খেলার পিছনে। প্রকৃত সাহিত্যের উদ্দেশ্যও একই, যা উদ্দীপকের মুনিরের উপলব্ধিতে ধরা দিয়েছে। সকলকে আনন্দ দেওয়াই সাহিত্যিকের প্রধান কাজ।

উদ্দীপকের মূলবক্তব্য খেলাচ্ছলে সাহিত্যচর্চা। আর এ বিষয় উদ্দীপকের মুনির অনুধাবন করেছেন। প্রকৃতপক্ষেই ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে খেলার সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে খেলার মতো আনন্দলাভই সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য। তাই বলা যায়, মুনিরের উপলব্ধি প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।

প্রশ্ন নং-০৮

৮. কাজল একজন নবীন ঔপন্যাসিক। পাঠকের মনোরঞ্জন করার মতো ক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে। সস্তা প্রেমের তরল কাহিনি তার উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য। তাছাড়া তার উপন্যাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সুরও পাওয়া যায়। একশ্রেণির তরুণ পাঠক তার উপন্যাসের খুব ভক্ত।

ক. ‘কলারাজ্য’ অর্থ কী?

খ. ‘রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের আলোকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের স্বরূপ তুলে ধরো।

ঘ. ‘‘উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব ফুটে ওঠেনি।’’— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

৮ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘কলারাজ্য’ অর্থ শিল্পকলার পরিমণ্ডল।

খ. সাধারণ দৃষ্টিতে যেকোনো জিনিসের বাহ্যিক রূপটি প্রত্যক্ষ করা গেলেও তা হৃদয়গ্রাহী হওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন দাবি করার বিষয়টি প্রশ্নোত্ত উক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।

লেখকের মতে, সাধারণ মানুষের চোখ বস্তুর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য্য অনুধাবন করতে পারে না। তাই যেকোনো বিষয় তাদের সামনে একটু বেশি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করতে হয়। নিজের কথা যেমন গুরুত্ব দিয়ে সাধারণের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকাশ না করলে কেউ মানে না, তেমনই রঙ্গমঞ্চে না চড়লে অভিনেতার অভিনয় কেউ দেখে না। অভিনেতাকে আপন কলা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে হলে অবশ্যই রক্তামঞ্চে চড়তে হবে।

গ. প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের স্বরূণ ও তাৎপর্য্য প্রসঙ্গে মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যার সঙ্গে  উদ্দীপকের মিল রয়েছে। সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য ও মনোরঞ্জনধর্মী বৈশিষ্ট্যের কথা আলোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন

যে, মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্য কখনোই চিরায়ত সাহিত্যের মর্য্যাদা পায় না। সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, যা মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের মাধ্যমে সম্ভব নয়। আনন্দভিন্ন খেলার যদি উদ্দেশ্য থাকে তখন তা হয় জুয়াখেলা আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য থাকলে তা হয় মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্য। উদ্দীপকে উল্লিখিত নবীন লেখক কাজল সস্তা প্রেমের তরল কাহিনি নির্মাণ করেছে। এ কাহিনির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মনোরঞ্জনের বিষয়টিও মাথায় রেখে সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপন্যাস সাহিত্য রচনা করেছে। তার এই সাহিত্য পাঠকের মনোরঞ্জনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য পূরণে সফল হলেও মহৎ সাহিত্য হয়ে উঠতে পারেনি। আলোচ্য প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, এ ধরনের সাহিত্যে সাহিত্যিকের মননশীলতা ও চিন্তাশক্তির প্রকাশ দেখা যায় না বলে তা স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাঠক সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।

ঘ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তুতে সাহিত্যের সাথে শিক্ষা, পাঠক, আনন্দদান, মনোরঞ্জন, সমাজ প্রভৃতি বিষয়ের সম্পর্ক ফুটে ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে খেলার সাথে তুলনা করে বলেছেন, সাহিত্য অনেকটা খেলারই মতো। খেলা ও সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য আনন্দ। সাহিত্য রচনা করে সাহিত্যিক নিজেও আনন্দিত হন। কিন্তু সাহিত্যিক যদি পাঠকের মনোরঞ্জন করতে চান তবে সাহিত্যের আনন্দদানের বিষয়টি নষ্ট হয় এবং মনোরঞ্জন করার কারণে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়। আবার সাহিত্য এবং শিক্ষার মাঝেও তফাত আছে বলে লেখক মত দিয়েছেন। তার মতে শিক্ষা গলাধঃকরণ করা হয়, আর সাহিত্যরস মানুষ স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে। সাহিত্য যদি জ্ঞানের কথা বলতে যায় তবে এটি তার তাৎপর্য্য হারাবে।


প্রশ্ন নং-০৯

৯. লোক যদি সাহিত্য হইতে শিক্ষা পাইতে চেষ্টা করে তবে পাইতেও পারে, কিন্তু সাহিত্য লোককে শিক্ষা দিবার জন্য কোনো চিন্তাই করে না। কোনো দেশেই সাহিত্য ইস্কুল-মাস্টারির ভার লয় নাই। রামায়ণ-মহাভারত দেশের লোকে পড়ে তাহার কারণ এ নয় যে, তাহা কৃষানের ভাষায় লেখা বা তাহাতে দুঃখী-কাঙালের ঘরকন্নার কথা বর্ণিত। তাহাতে বড়ো বড়ো রাজা, বড়ো বড়ো রাক্ষস, বড়ো বড়ো বীর এবং বড়ো বড়ো লেজের কথাই আছে। আগাগোড়া সমস্তই অসাধারণ। সাধারণ লোক আপনার গরজে এই সাহিত্যকে পড়িতে শিখিয়াছে।

ক. ‘যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ’ রচয়িতা কে?

খ. ‘মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ।’- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের ভাবগত মিল কতখানি? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য প্রস্ফুটিত হয়েছে।’’—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

৯ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ'-এর রচয়িতা বশিষ্ঠ মুনি।

খ. মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন এবং আনন্দদানের জন্যই সংঘটিত হয়। খেলা শুদ্ধ আনন্দ দেয়, যা শ্রেণি বা ভেদাভেদ ছাড়াই সবার জন্য সমান। এটি মানুষের মন ও দেহকে সতেজ রাখে এবং জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। খেলায় কোনো স্বার্থ বা উপকারের আকাঙ্ক্ষা নেই, যা একে অন্য সব কার্য্যকলাপ থেকে আলাদা করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে।

গ. উদ্দীপক এবং ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষাদান সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য না হওয়ার বিষয়টি লক্ষ করা যায়।

প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে স্পষ্ট করেছেন, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য কখনোই শিক্ষা প্রদান হতে পারে না। কারণ, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য একেবারেই পৃথক। শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষকে জ্ঞানের কথা জানানো আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনকে জাগানো।

উদ্দীপকে সাহিত্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সাহিত্যের মাধ্যমে লোকে শিক্ষা গ্রষণ করতে পারে, কিন্তু মানুষকে শিক্ষা প্রদান করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। সাহিত্য কাউকে উদ্দেশ্য করে রচিত হয় না, কিন্তু বড়ো বড়ো সাহিত্যকর্ম মানুষ নিজের আগ্রহেই পাঠ করতে শিখে নেয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও এই ভাবনা ফুটে উঠেছে। তিনি এ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন, সাহিত্য ও শিক্ষা পুরোপুরি পৃথক এবং মহৎ সাহিত্যকর্ম উদ্দেশ্যহীন- পাঠক স্বেচ্ছায় এর রস আস্বাদন করার চেষ্টা করে। সুতরাং, উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের ভাবগত মিল অনেকখানি, এ কথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠেই বলা যায়।

ঘ. উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য শিক্ষাদান নয়, আনন্দ দেওয়াই সাহিত্যের উদ্দেশ্য, বিষয়টি প্রস্ফুটিত হওয়ায় বক্তব্যটি যথাযথ।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দদান করা, কাউকে মনোরঞ্জন করা বা শিক্ষা দেওয়া নয়। কেননা, কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত। শিক্ষা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়, অপরদিকে কাব্যরস লোকে ভেচ্ছায় ও সানন্দে লাভ করে। তাই প্রাবন্ধিক স্পষ্ট করেই বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষাদান করা নয়।

উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, মানুষ সাহিত্য থেকে শিক্ষালাভ করতে পারে কিন্তু লোককে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাহিত্য রচিত হয় না। কারণ সাহিত্য কখনোই স্কুল মাস্টারির ভার নেয়নি। সাধারণ মানুষ নিজের ইচ্ছায় নিজের গরজে সাহিত্য পড়ে। রামায়ণ-মহাভারতের মতো সাহিত্য বই মানুষ জ্ঞানলাভের জন্য পড়ে না।

উদ্দীপক ও সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ উভয় জায়গায় একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে যে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা নয়। প্রাবন্ধিকের মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞানের বিষয় জানানো, পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনে সাড়া জাগানো। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, মানুষ নিজের ইচ্ছায় সাহিত্যরস আস্বাদন করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের মূলবক্তব্য প্রস্ফুটিত হয়েছে।

প্রশ্ন নং-১০

১০. অধ্যাপক জাহিদ রেজা একজন সাহিত্যানুরাগী ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়ও কেন্দ্রে যা প্রবন্ধ প্রকাশিত হলে তিনি অতিশয় আনন্দিত হয়ে তাঁর স্ত্রীকে তা পড়তে বলেন। তাঁর স্ত্রী এতে ভীষণ বিরক্ত হন এবং বলেন, এসব বিনে পয়সার লেখা বাদ দিয়ে বরং প্রেমের গল্প নিয়ে সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখো, ঘরে কিছুটা বাড়তি পয়সা আসবে আর তোমার খ্যাতিও বাড়বে।

ক. ফরাসি ভাষ্কর রোদ্যাঁর পূর্ণ নাম কী?

খ. লেখক আনন্দবিহীন খেলাকে জুয়াখেলা বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘‘উদ্দীপকের মিসেস জাহিদ রেজার চেতনা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আদর্শ বিরোধী।’’—বিশ্লেষণ করো।

১০ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ফরাসি ভাষ্কর রোদ্যাঁর পূর্ণ নাম হলো ফ্রাঁসোয়া অগুস্ত রোঁদ্যা।

খ. যে খেলায় আনন্দ নেই বরং উপরি পাওয়ার আশা আছে লেখক তাকে জুয়াখেলা বলার পক্ষপাতী।

প্রাবন্ধিকের মতে, মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে খেলাই শ্রেষ্ঠ। কেননা, তা উদ্দেশ্যবিহীন। তবে যেকোনো খেলায় আনন্দ থাকা আবশ্যক। আনন্দময় বলেই খেলাকে সবাই উপভোগ করে। যে খেলায় আনন্দ নেই, সে খেলার পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করে। খেলার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সেরকমই একটি উদ্দেশ্য। আর অর্থের উদ্দেশ্যে যে খেলা হয় সে খেলাকে জুয়াখেলা হিসেবে চিহ্নিত। লেখক তাই আনন্দবিহীন খেলাকে জুয়াখেলা বলেছেন।

গ. উদ্দীপকটিতে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনের আনন্দে সাহিত্যচর্চার পরিচয় ফুটে উঠেছে।

আলোচ্য প্রবন্ধ মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা; কারো মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্য সৃষ্টি হতে হবে সাহিত্যদ্রষ্টার মনের আনন্দ থেকে; কোনোকিছু পাওয়ার আশায় নয়। আনন্দ ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে রচিত সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত সাহিত্য বলে পরিগণিত হবে। প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে এ রকমই মত ব্যক্ত করেছেন।

উদ্দীপকের জাহিদ শুধুই মনের আনন্দে গল্প বা প্রবন্ধ লেখেন। তাঁর লেখা স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলেই তিনি খুশি। তাঁর লেখায় কৃত্রিমভাবে পাঠকের মনোরঞ্জনের প্রচেষ্টা থাকে না। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এরকম সাহিত্যচর্চার বিপক্ষে। জাহিদকে তিনি চটকদার কোনো প্রেমের কাহিনি বা সিনেমার গল্প লেখার পরামর্শ দেন। কারণ তিনি জানেন, সেটা করা হলে টাকা উপার্জন ও খ্যাতি অর্জন দুটো উদ্দেশ্যই সফল হবে। কিন্তু জাহিদ টাকা কিংবা খ্যাতি কোনোটিই নয়, শুধু নিজের মনের তাগিদে লেখালেখি করেন। অর্থাৎ প্রমথ চৌধুরী ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের যে আসল উদ্দেশ্যের কথা বলেছেন, সে উদ্দেশ্যই জাহিদ আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। 

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখক জাহিদ রেজাকে তাঁর স্ত্রী খ্যাতি ও আর্থিক লাভের অনুকূল সাহিত্য রচনার তাগিদ দিয়েছেন, যা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বর্ণিত আদর্শের বিরোধী।

প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর মতে, সমাজের মনোরঞ্জন করে সাহিত্য রচনা করলে তা স্বধর্মচ্যুত হয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করেছে। কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক দলের আনুকূল্য পাওয়ার জন্য এবং সেইসঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য এ ধরনের সাহিত্য রচনা করেছে। উদ্দীপকের জাহিদ রেজার মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভের জন্য বা অর্থলাভের জন্য সাহিত্যচর্চার ইচ্ছা না থাকার বিষয়টি প্রতিভাত হলেও মিসেস রেজা তাতে সন্তুষ্ট নন। মিসেস রেজার আকাঙ্ক্ষার অবস্থান-সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্যের ঠিক বিপরীত মেরুতে। পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিবেশই তাঁর চিন্তাভাবনার পিছনে দায়ী। মিসেস রেজা মনে করেন, তাঁর স্বামী যদি মনের আনন্দের জন্য বিনে পয়সার লেখা বাদ দিয়ে প্রেমের গল্প কিংবা সিনেমার স্প্রিন্ট লেখেন তাহলে তাঁরও অনেক উপার্জন হবে। একইসঙ্গে তরুণ সমাজের মধ্যে তাঁর খ্যাতিও বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রকৃতপক্ষে মিসেস রেজা সাহিত্যের মর্মার্থ বুঝতে অক্ষম।

উদ্দীপকের মিসেস রেজা সাহিত্যের আনন্দদানের উদ্দেশ্য না বুঝে পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিতো খেলা' প্রবন্ধে এ বিষয়ের কথাব্যক্ত হয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্য রাজ্য খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি  হতে পরে, কিন্তু ঘরে পাঠকের মনোদৃষ্টি হতে পারে না। আর সাহিত্য গড়ার মূলত আনন্দ নেওয়া ও আনন্দ দেওয়ার বিষয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url